সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
মোয়াজ্জমপুর উচ্চ বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু

  • আপলোড সময় : ০১-১০-২০২৪ ০৮:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-১০-২০২৪ ০৮:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন
প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু
স্টাফ রিপোর্টার :: তাহিরপুর উপজেলার মোয়াজ্জমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিছবাহুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। গত ১৪ আগস্ট সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবরে এই অভিযোগ দাখিল করেছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিমাংশু রঞ্জন তালুকদার এবং সদস্য মো. আবুল খায়ের। অনুলিপি দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের জয়শ্রী বাজার সংলগ্ন মোয়াজ্জমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যান তিনি। পরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ে অভিযোগের কথা শুনেন। এ সময় উপস্থিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সাবেক সভাপতি ও সদস্যরা প্রধান শিক্ষক মিছবাহুল আলমের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অভিযোগকারীরা জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন, ভাতা, বাৎসরিক সেশন ফি, পরীক্ষার ফি, উপবৃত্তির টাকা ও অন্যান্য আয় বাবদ বাৎসরিক প্রায় ৮/১০ লক্ষ টাকা বিদ্যালয়ের তহবিলে নিয়মিত জমা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মিছবাহুল আলম কোনো ধরনের হিসাব নিকাশ ব্যতিরেকে বছরের পর বছর এই টাকা আত্মসাত করে চলেছেন। এই বিষয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে মাসিক মিটিংয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকগণ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরূপণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির নিকট প্রধান শিক্ষক কোনো ধরনের হিসাব নিকাশ বা আয় ব্যয়ের নথিপত্র উপস্থাপন করতে চাননি। এই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী উপস্থিত অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিছবাহুল আলমের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেন। এ সময় অভিযোগকারীরা প্রধান শিক্ষক দ্বারা এসএসসি শিক্ষার্থীদের নামের অংশে ভুল সংশোধনের কথা বলে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, তিনি মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে আসেন না। কিন্তু রেজিস্ট্রারে তাকে উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিমাংশু রঞ্জন তালুকদার, সদস্য মো. আবুল খায়ের, মো. গোলাম নুর, আনাছ মিয়া, মো. নিজাম উদ্দিন, আবুল খায়ের (২), নজরুল ইসলাম, মো. শামীম মিয়া, আমীর হামজা, জুলফিকার আলী, মামুনুর রশিদ ফকির, মো. মনির হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিকালে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শেষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তিনি যে অভিযোগ পেয়েছেন, এরমধ্যে প্রধান শিক্ষক মিছবাহুল আলমের অনুপস্থিতির অভিযোগ অনেকটা সত্য বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাত বিষয়ে সঠিক তদন্তের স্বার্থে ৪ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, ভাউচার ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট করার পরামর্শ দেন। এসব কাজ স¤পন্ন করে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকে যারা অভিযোগ করেছেন বা অভিযোগকারী হিসাবে যুক্ত আছেন, তারা সকলেই সকলের মতো করে লিখিতভাবে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে দুর্নীতি বা অনিয়মের সঠিক চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এসব কাজ শেষ হলে আরও এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে পারবো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স